ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা

হোলিস্টিক কেয়ার বনাম বিচ্ছিন্ন চিকিৎসা

  • ট্র্যাডিশনাল সিস্টেমে শুধুমাত্র “লক্ষণ” (symptom) দেখা হয়, শিশুর সামগ্রিক অবস্থা নয়।

  • শরীর, মন, ও গাট হেলথ — এই তিন দিক একত্রে দেখা হয় না।

  • প্রাকৃতিক বা খাদ্যভিত্তিক পদ্ধতি প্রায় অনুপস্থিত।

  • সবকিছুই ওষুধ-কেন্দ্রিক — হিলিং নয়, “control” করাই লক্ষ্য।

  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয় না।

  • ওষুধ বন্ধ করলে অনেক সময় শিশুর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

  • নিউরোপ্লাস্টিসিটি বা ব্রেইন রিওয়ারিং নিয়ে কোনো ধারণা নেই।

  • শিশুর এনজাইটি বা সেন্সরি ওভারলোড ওষুধে ঢেকে রাখা হয়।

  • শিশুর গাট সমস্যা বা ফুড সেনসিটিভিটি বিবেচনায় নেওয়া হয় না।

  • শিশুর প্রাকৃতিক স্বভাবের পরিবর্তে “normal” বানানোর চেষ্টা করা হয়।

প্যারেন্টের অংশগ্রহণ বনাম এক্সপার্ট-নির্ভর সিস্টেম

  • প্যারেন্টকে বাইরে রেখে থেরাপি করা হয় — শিশুর উন্নতি টেকসই হয় না।

  • বাবা-মাকে শেখানো হয় না “বাড়িতে কীভাবে সাহায্য করতে হবে।”

  • থেরাপির সময় বাবা-মা জানে না শিশুকে ঠিক কী শেখানো হচ্ছে।

  • প্যারেন্টকে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয় না।

  • অনেক থেরাপিস্ট প্যারেন্টের প্রশ্ন শুনতে বা ব্যাখ্যা দিতে চায় না।

  • শিশুর রিপোর্ট বা প্রগ্রেসে স্বচ্ছতা থাকে না।

  • থেরাপিস্ট-নির্ভর পদ্ধতি প্যারেন্টকে অসহায় করে তোলে।

  • শিশুর আচরণ পরিবর্তন হলেও বাবা-মা জানে না কিভাবে বজায় রাখতে হবে।

  • বাড়িতে প্রয়োগ করার মতো কোনো গাইডলাইন দেওয়া হয় না।

  • প্যারেন্টকে “problem creator” ভেবে দোষারোপ করা হয়।

অনলাইন অ্যাক্সেস বনাম সীমিত সেবা

  • অধিকাংশ ভালো সেন্টার শুধু ঢাকায় বা বড় শহরে অবস্থিত।

  • গ্রামীণ পরিবারকে দূর-দূরান্তে যাত্রা করতে হয়।

  • দীর্ঘ ভ্রমণে শিশুর overstimulation ঘটে।

  • প্রতিবার থেরাপির জন্য অনেক সময় নষ্ট হয়।

  • সেন্টার পৌঁছাতে ট্রাফিক ও ভিড় শিশুর anxiety বাড়ায়।

  • প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিবার সঠিক থেরাপি পায় না।

  • অনুপস্থিতিতে সেশন বাদ পড়লে continuity নষ্ট হয়।

  • অনলাইন অপশন না থাকায় ফলো-আপ হয় না।

  • ভ্রমণ ও লজিং খরচ পরিবারের উপর বাড়তি চাপ ফেলে।

  • শিশুর নিজের পরিচিত পরিবেশের বাইরে কাজ করায় সে অস্বস্তি বোধ করে।

অর্থনৈতিক ও সময়ের চাপ

  • থেরাপি ফি অত্যধিক, অথচ ফল অনিশ্চিত।

  • প্রতিটি সেন্টারের খরচ ভিন্ন, মান এক নয়।

  • অপ্রয়োজনীয় টেস্ট বা সেশন যুক্ত করে বাড়তি খরচ নেয়।

  • সরকারি কোনো ভর্তুকি বা ইনস্যুরেন্স সাপোর্ট নেই।

  • যাতায়াত, অপেক্ষা ও ছুটি নেওয়ায় চাকরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

  • প্যারেন্টরা অনেক সময় কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

  • ছোট শিশুদের জন্য নির্ভরযোগ্য ডে-কেয়ার নেই।

  • প্রাইভেট সেন্টারের রুল অনুযায়ী পেমেন্ট করতে হয় — ফেরতযোগ্য নয়।

  • মাঝপথে থেরাপিস্ট পরিবর্তন হলে আবার নতুন খরচ।

  • সময় ও অর্থ দুই দিকেই ক্লান্তি আসে।

মানসিক ও আবেগগত চাপ

  • বাবা-মাকে কখনোই কাউন্সেলিং দেওয়া হয় না।

  • “আপনার বাচ্চা স্বাভাবিক না” — এমন মনোবল-ভাঙা মন্তব্য সাধারণ।

  • হতাশা, অপরাধবোধ ও আত্মদোষবোধ বেড়ে যায়।

  • পরিবার ও সমাজে লজ্জা বা কলঙ্কের চাপ থাকে।

  • বাবা-মা একাকিত্ব অনুভব করেন — কোনো পিয়ার সাপোর্ট নেই।

  • একাধিক ডাক্তার বা থেরাপিস্টের বিপরীত মতামতে বিভ্রান্তি।

  • শিশুর উন্নতি না হলে প্যারেন্টদের দায়ী করা হয়।

  • শিশুর অগ্রগতির জন্য অপেক্ষা করতে করতে মানসিক ক্লান্তি আসে।

  • প্যারেন্টদের মধ্যে দাম্পত্য চাপ ও সম্পর্ক ভাঙনের ঝুঁকি।

  • শিশুর প্রতি ভালোবাসার জায়গায় হতাশা জমে।

বৈজ্ঞানিক দিকের অভাব

  • গাট-ব্রেইন কানেকশন নিয়ে সচেতনতা প্রায় নেই।

  • খাদ্য বা পরিবেশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা হয় না।

  • গ্লুটেন/কেজিন ইস্যুকে “মিথ” বলা হয়, পরীক্ষা করা হয় না।

  • নিউরোপ্লাস্টিসিটি-ভিত্তিক থেরাপি এখনো চালু হয়নি।

  • শিশুদের ডায়েট একেবারেই অবহেলিত।

  • হাইপারঅ্যাক্টিভিটি হলে ওষুধ—কারণ নয়, ফল দেখা হয়।

  • খাদ্য সংবেদনশীলতা বা ইনফ্ল্যামেশন পরিমাপের সুযোগ নেই।

  • “ডিটক্স” ধারণা নিয়ে কোনো মেডিক্যাল গাইডেন্স নেই।

  • ওষুধের সাইড-ইফেক্ট ম্যানেজ করতে হয় নিজের মতো করে।

  • চিকিৎসা ব্যবস্থা একমুখী ও পুরনো চিন্তাধারায় আটকে আছে।

প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা ঘাটতি

  • থেরাপিস্টদের অনেকেই আনুষ্ঠানিক ট্রেনিং পাননি।

  • প্যারেন্ট-এডুকেশন প্রোগ্রাম অনুপস্থিত।

  • পরিবারকে ব্রেইন-বেসড শিক্ষা দেওয়া হয় না।

  • বাংলা ভাষায় রিসোর্স বা গাইডলাইন পাওয়া যায় না।

  • শিশুর জন্য থেরাপি একঘেয়ে — একই টাস্ক বারবার।

  • শিক্ষামূলক ব্যাখ্যা ছাড়া শুধু “অ্যাক্টিভিটি” করানো হয়।

  • প্যারেন্টদের জন্য ভিডিও বা রেকর্ডেড মেটিরিয়াল নেই।

  • স্কুলের শিক্ষকরা জানেন না কিভাবে এমন শিশু সামলাতে হয়।

  • হোমওয়ার্ক বা হোম-ফলোআপের কোনো সিস্টেম নেই।

  • দীর্ঘমেয়াদে উন্নতি মাপার কোনো মানদণ্ড নেই।

কমিউনিটি ও সাপোর্টের অভাব

  • কোনো শক্তিশালী প্যারেন্ট কমিউনিটি নেই।

  • অভিজ্ঞ বাবা-মা নতুনদের সাহায্য করেন না — সিস্টেমে সংযোগ নেই।

  • সমস্যার কথা বললে “অতিরঞ্জন” বলা হয়।

  • গ্রুপ-সাপোর্ট বা কাউন্সেলিং সেশন বিরল।

  • প্যারেন্টদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে কেউ নজর দেয় না।

  • পরিবারে আত্মীয়রা সহযোগিতা না করে সমালোচনা করে।

  • শিশুর স্কুলে সহপাঠীরা তাকে আলাদা করে রাখে।

  • সেন্টারগুলো প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব রাখে — সহযোগী নয়।

  • প্যারেন্টরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না।

  • শিশু-ফ্রেন্ডলি পরিবেশ কম, judgemental আচরণ বেশি।

স্থানীয় বাস্তবতায় অমিল

  • বিদেশি মডেল কপি করা হয়, বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না।

  • ডায়েট চার্টে এমন খাবার থাকে যা এখানে পাওয়া যায় না।

  • ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ উপেক্ষা করা হয়।

  • প্যারেন্টদের সময়, অর্থ ও জীবনযাত্রা বিবেচনা করা হয় না।

  • পরিবারে একাধিক সদস্য থাকায় রুটিন বাস্তবায়ন কঠিন হয়।

  • লোকাল ভাষায় সচেতনতা প্রোগ্রাম নেই।

  • সরকারি হাসপাতালে কোনো ডেডিকেটেড Autism ইউনিট নেই।

  • সরকারি মেডিকেল স্টাফদের এই বিষয়ে পর্যাপ্ত ট্রেনিং নেই।

  • রোগ নির্ণয়ের জন্য বিদেশে যেতে হয় অনেক পরিবারকে।

  • দেশীয় সমাধানের অভাবে পরিবার বিদেশি থেরাপিতে নির্ভরশীল হয়।

দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল অনিশ্চিত

  • বছরের পর বছর থেরাপি চলেও শিশুর উন্নতি সামান্য।

  • থেরাপি বন্ধ করলে দ্রুত regression দেখা দেয়।

  • শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ে না — কৃত্রিম শেখানো হয়।

  • আচরণিক উন্নতি হলেও মানসিক বিকাশ হয় না।

  • পরিবারে শান্তি আসে না — চাপ থেকেই যায়।

  • শিশুর self-regulation শেখানো হয় না।

  • পরিবারে আধ্যাত্মিক বা মানসিক প্রশান্তি ফিরে আসে না।

  • বাবা-মা “থেমে নেই” এমন অনুভব করেন।

  • শিশুর ভবিষ্যত নিয়ে ভয় থেকেই যায়।

  • “হিলিং” নয়, শুধু “ম্যানেজমেন্ট” হয় — স্থায়ী সমাধান নয়।